Havit MX-701 Review in Bangla! একের ভিতর সাত?

আপনার বাজেট যদি ১০০০ টাকা হয় এবং একটি ব্লুটুথ স্পিকারের সন্ধানে থাকেন, তাহলে Havit MX-701 Bluetooth Speaker হতে পারে একটি বেস্ট অপশন! এটি একই সাথে একটি ব্লুটুথ স্পিকার, একটি মেমোরি কার্ড রিডার, একটি ঘড়ি, একটি এলার্ম ক্লক, এবং আরও অনেক কিছু! এই স্পিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানাচ্ছি এই ব্লগে!

Havit MX-701 Review in Bangla! একের ভিতর সাত?

Why do you need a Bluetooth Speaker

ব্লুটুথ স্পিকারের কাজই হলো মূলত তারের ঝামেলা ছাড়া শব্দ সরবরাহ করা, এটাও তার ব্যতিক্রম নয়! তবে এই স্পিকারের কিছু বিশেষত্ব এই স্পিকারকে অনন্য করে তুলেছে!

Another funny use

বাসায় একটা ব্লুটুথ স্পিকার থাকলে আপনি সেটাকে চাইলেই একটা Google Home হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন! কিভাবে?- 'OK Google' বলার মাধ্যমে ফোনের গুগোল এসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করার মাধ্যমে!

Some information about HAVIT

হ্যাভিট হলো একটি চাইনিজ এক্সেসরিজ ব্র্যান্ড। এটি ইতোমধ্যেই এক্সেসরিজ জগতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

Actual Product Review

Design and Build Quality

স্পিকারটার ডিজাইন বেশ সুন্দর। এটি পুরোপুরি প্লাস্টিক বিল্ড। তবে, প্লাস্টিক বিল্ড হলেও Matt-Grippy একটা ফিনিশ দেওয়া হয়েছে; হাতে ধরলে মনে হয় রাবারের মতো!

Display

এই স্পিকারের ডিসপ্লে একটি সাদা রংয়ের সিঙ্গেল কালার ডিসপ্লে। এই ডিসপ্লেতে চারটি ব্রাইটনেস মোড রয়েছে। সত্যি বলতে ডিসপ্লেটা খুব সুন্দর!

Input-Output Ports

এই স্পিকারে মোট ৩টি ইনপুট-আউটপুট পোর্ট রয়েছে। সবগুলোর নাম ও কাজ নিচে দেওয়া হলো:

• Microphone: এই স্পিকারে বিল্ট-ইন মাইক রয়েছে। তবে কোয়ালিটি খুব একটা সুবিধার না।

• SD Card Slot: এই স্লটে মেমোরি কার্ড লাগিয়ে গান বাজানো যায়।

• Micro-USB Port: এই স্পিকারে মাইক্রো-ইউএসবি পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যেটা কিছুটা হতাশাজনক। এই পোর্ট দিয়েই এই স্পিকারকে চার্জ দিতে হয়।

Modes

এই স্পিকারে সর্বমোট ৭টি মোড রয়েছে। সবগুলো মোড সম্পর্কে নিচে আলোচনা করছি।

Bluetooth Mode

এই মোডে স্বাভাবিকভাবেই ব্লুটুথের মাধ্যমে গান বাজানো যায়। তবে এই স্পিকারে ব্লটুথ ৪.২ টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে, যেটা এখন অনেক পুরোনো হয়ে গিয়েছে।

FM Radio Mode

এই স্পিকার দিয়ে আপনি চাইলেই FM Radio শুনতে পারবেন!

Aux Mode

এই মোডে আপনি ফোনের হেডফোন জ্যাকের সাথে স্পিকার কানেক্টে করে গান বাজাতে পারবেন।

TF Mode

এই মোডে আপনি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করে গান বাজাতে পারবেন।

Clock Mode

এই স্পিকারটি একই সাথে একটি মাল্টিফাংকশনাল ঘড়ি। তবে সমস্যা হলো ঘড়িটি ২৪ ঘণ্টা ফরম্যাটের।

Alarm

এই ঘড়িতে আপনি সর্বোচ্চ দুটি এলার্ম সেট করতে পারবেন। এলার্ম টোন একটাই, কাস্টোমাইজ করার অপশন নেই।

Temperature Viewer

এই ঘড়িতে Real-Time তাপমাত্রা দেখতে পারবেন। Accuracy ভালোর কাতারেই পড়ে।

Buttons

এই স্পিকারে উপরের দিকে ৬টি বাটন রয়েছে। সেগুলোর নাম ও কাজ যথাক্রমে নিচে দেওয়া হলো:

• Brightness Button: সিঙ্গেল প্রেসে এই বাটন দিয়ে তাপমাত্রা দেখা যায়। লং প্রেসে ব্রাইটনেস চেন্জ করা যায়।

• Set Button: এই বাটন দিয়ে এলার্ম-টাইমসহ যাবতীয় সেটিং চেঞ্জ করা যায়।

• Mode Button: এই বাটনে সিঙ্গেল প্রেসে মোড চেঞ্জ হয়। লং প্রেসে ব্যাটারি পার্সেন্টেজ দেখা যায়।

• Previous Button: এই বাটনে সিঙ্গেল প্রেস করলে ভলিউম কমে যায়। লং প্রেস করলে আগের গানে যাওয়া যায়।

• Play and Power Button: সিঙ্গেল প্রেসে গান প্লে-পজ হয়। লং প্রেসে স্পিকার অন-অফ হয়!

• Next Button: এই বাটনে সিঙ্গেল প্রেসে ভলিউম বাড়ে। লং প্রেসে পরের গানে যাওয়া যায়।

Sound Quality

এই ডিভাইসে দুটি স্পিকার রয়েছে। একটি হাই এবং মিড তৈরি করে এবং আরেকটি স্পিকার বেস তৈরি করে। সাউন্ড কোয়ালিটি বাজেট হিসেবে ভালো। তবে, অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্র যুক্ত গান বেশি ভলিউমে শুনলে Noise এর উপস্থিতি পাওয়া যায়।

Battery Backup

এই স্পিকার দিয়ে একটানা গান বাজিয়ে আমি অনায়াসে পাঁচ ঘণ্টার বেশি ব্যাকআপ পেয়েছি। ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।

Price

আমি যে শপ থেকে স্পিকারটি কিনেছি, সেখানে এটার রেগুলার প্রাইস ১১০০ টাকা ছিল। তবে শপটিতে ডিস্কাউন্ট চলছিলো। আমি ১০০০ টাকা দিয়েই স্পিকারটি পেয়ে গেছি।

আজকের ব্লগ এ পর্যন্তই, ব্লগটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না!